জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বরগুনায় পায়রা নদীর তীব্র ভাঙন: বিলীন হচ্ছে গোলবুনিয়ার বেড়িবাঁধ ও পৈতৃক ভিটেমাটি
- আপডেট সময় : 08:14:57 pm, Tuesday, 30 June 2026 142 বার পড়া হয়েছে
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরগুনায় নদী ভাঙন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে জেলার গোলবুনিয়া এলাকায় পায়রা নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিনিয়ত বিলীন হয়ে যাচ্ছে স্থানীয় মানুষের শেষ সম্বল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অসময়ে তীব্র জোয়ারের কারণে নদীর পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, যার সরাসরি আঘাত এসে পড়ছে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বাঁধগুলোর ওপর। ইতিমধ্যেই গোলবুনিয়ার বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, যার ফলে জোয়ারের লোনা পানি অনায়াসেই লোকালয়ে প্রবেশ করছে এবং ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে।
এই জলবায়ুগত সংকটের কারণে একের পর এক কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শত বছরের পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে বহু পরিবার। ভৌগোলিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি এবং নদীকেন্দ্রিক জীবিকা আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। মাঠের পর মাঠ ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে একদিকে যেমন এলাকায় খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারিয়ে স্রেফ জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে অনেক পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে কিংবা অন্য কোথাও আশ্রয় নিতে হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সম্পূর্ণ দুর্বল করে দিচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এবং গোলবুনিয়ার অবশিষ্টাংশ রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি। প্রতি বছর শুধু জোড়াতালির সংস্কার দিয়ে এই বিশাল প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব নয়। বরগুনার এই বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকাকে বিলীন হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে নদী শাসনের সঠিক পরিকল্পনা এবং জলবায়ু সহনশীল দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে এই ভাঙন পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে আরও অনেক জনপদ।









